অন্তর্জাল-২ আসবে এআই, ব্লকচেইন যুদ্ধ নিয়ে!
দোর্দাণ্ড প্রতাপে বাংলাদেশসহ কানাডা ও আমেরিকার ১৮৪ প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম সাইবার থ্রিলার অন্তর্জাল। প্রথম দিনেই তরুণ দর্শকদের বাধভাঙ্গা উপস্থিতি আর উচ্ছ্বাসে অন্তর্জাল-২ নির্মাণ পরিকল্পনার আগাম ঘোষণা দিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। আর নির্মাতা দিপংকর দীপন জানিয়েছেন, দ্বিতীয় সিক্যুয়ালটি হবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ব্লক চেইন ও ডিপ ওয়েব নিয়ে।
তিন বছরে নানা ফরম্যাটে সাত বার একা দেখা হলেও শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্সে অন্তর্জাল এর বিশেষ প্রদর্শনী উপভোগ করে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, একজন সিনেমাপ্রেমী দর্শক হিসেবে আমি পুরোটা সময় স্ক্রিনে আটকে ছিলাম। আমাদের নতুন প্রজন্মের আর্টিস্টরা এবং অন্তর্জাল সিনেমার সম্পূর্ণ টিম চমৎকার কাজ করেছে; সিনেমাটির স্ক্রিন প্লে, স্টোরি টেলিং, ডিরেকশান, মিউজিকসহ সবকিছুর সমন্বয়ে একটা নিখুঁত সিনেমা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ডেটা আমাদের ভবিষ্যৎ পৃথিবীর জন্য কতোটা মূল্যবান এবং আমাদের তরুণ প্রজন্মকে এই বিষয়ে কিভাবে সচেতন হতে হবে তার একটা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাসেজ আছে। সাইবার সিকিউরিটির মতো জটিল একটা বিষয় খুব সাবলীল ও চমৎকারভাবে দীপন দা অন্তর্জাল সিনেমায় তুলে ধরেছেন।
পলক বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে আমাদের দেশের তরুণরা শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছে, একইভাবে বর্তমানে সময়ের সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধ হচ্ছে সাইবার যুদ্ধ; এই যুদ্ধেও আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের তরুণরা কিভাবে এগিয়ে আসবে এবং দেশ ও বিশ্বের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভূমিকা রাখবে তারই দৃশ্যায়ন হচ্ছে অন্তর্জাল সিনেমা।

আমাদের অর্থনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও বিনোদনের মাধ্যমেরও একটা প্যারাডাইম শিফট হচ্ছে, আর এই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিচ্ছে ‘অন্তর্জাল’ সিনেমা। এটি একটি নতুন প্রজন্মের সিনেমা, ভিন্ন ধারার সিনেমা; আমি বিশ্বাস করি আমাদের দেশের সিনেমাপ্রেমী দর্শকরা হলে এসে সিনেমাটি উপভোগ করবে- যোগ করেন পলক।
অন্তর্জালের প্রিমিয়ার শো শেষে নির্মাতা দিপংকর দীপন বলেছেন, অলরেডি অন্তর্জাল ( The Internet ) ২ বানানোর ঘোষণা দেয়া হয়েছে। আর প্রথম পর্বের জন্য আমি পুরো টিমের প্রতি ভালোবাসা জানাই। চির কৃতজ্ঞতা মোহাম্মদ আলী হায়দার, সাদেকুল আরেফিন আর শাহ আমীর খুসরু কে। তারা এই ছবির প্রডিউসার। যাদের ছাড়া এই সিনেমা হতো না। আমি এই সিনেমার কৃতিত্ব এই তিনজন মানুষকে দেব- যারা সামনে না এসে পেছনে থেকে পুরো কাজটা করে দিয়েছেন। আর অন্তরের গহীন থেকে কৃতজ্ঞতা জিজি ভাই, স্পেল বাউন্ডের অন্যান্য পার্টনার আর টিম স্পেল বাউন্ডকে - এই বিশার কর্মযজ্ঞ যাদের ছাড়া কোনদিন হতো না। আর পলক ভাইযের কথা কি বলবো- তিনি অনুপ্রেরণার কেন্দ্রবিন্দু। স্যালুট আপনাদের - এই অধম পরিচালকের পক্ষ থেকে।
সিনেমাতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিদেশি অপশক্তির ষড়যন্ত্র, সাইবার হামলা আর সেটাকে মোকাবিলার গল্প তুলে ধরা হয়েছে। এতে লুমিন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ। আর বিদ্যা সিনহা মিম অভিনয় করেছেন নিশাত চরিত্রে। সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে রয়েছেন সুনেরাহ বিনতে কামাল। তার চরিত্রের নাম প্রিয়ম। তিনি রোবট নিয়ে কাজ করেন। আরও আছেন এবিএম সুমন, মাশরুর রাব্বি ইনান প্রমুখ।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থ বিজ্ঞানে স্নাতক অধ্যায়ন কালেই কোডিংয়ে বিশেষ পারদর্শী ‘লুমিন’ ওরফে সিয়াম আহমেদ বললেন, ‘আমরা এখানে জিততে নই, পার্থক্য তৈরী করতে এসেছি। জেতা আর পার্থ্যক্য তৈরী করার মধ্যে পার্থক্য আছে। আমরা পরিবর্তন করতে এসেছি।’
আর প্রথম দিনেই সিনেমাটি দেখে মুগ্ধ একজন দর্শক স্বর্ণের ব্রেসলেট উপহার দেন মিমকে।
নির্মাতার সঙ্গে ছবিটির সহ লেখক সাইফুল্লাহ রিয়াদ ও আশা জাহিদ। সরকারের আইসিটি ডিভিশনের অনুপ্রেরণায় নির্মিত এই সিনেমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মোশন পিপল স্টুডিওজ ও স্পেলবাউন্ড লিও বার্নেট।







